সকালে ঘুম থেকে উঠার পরই মেজাজ খারাপ।
বাংলালিংক থেকে ফোন এসেছে। এক সুরেলাকন্ঠি আমাকে নানা অফার দিচ্ছে।
একেতো রাতে ঘুম হয় না। কোন রকম ভোরের দিকে একটু ঘুমে ধরছিলো। তার উপর সকাল
সকাল ফোন দিয়া কাঁচা ঘুমটাই ভেঙে দিয়ে বলে-
--স্যার বাংলালিংক থেকে টুম্পা বলছি। সময় হবে কি দুমিনিট কথা বলার?
-না।
--স্যার দুমিনিট মাত্র। তেমন কোন ক্ষতি হবে না নিশ্চয়ই!
-ক্ষতি না হলেও না।
--স্যার আপনি আমাদের কোম্পানীর অত্যন্ত পুরানো গ্রাহকদের একজন। এই
কারণে আমাদের সব এক্সক্লুসিভ অফার আসলে আপনাদেরই আগে জানানো হয়। দুমিনিট
হলেই হবে স্যার।
-নতুন পুরাতন বুঝি না। কথা বলবো না।
-- প্লিজ স্যার একটু।
-একটুও না।
--ওকে ঠিকাছে স্যার তাহলে একমিনিট?
-তবুও না।
--স্যার আমাদের এসেছে নতুন এক প্যাকেজ। পিক আওয়ারে বাংলালিংক টু বাংলালিংক এ কথা বলুন মাত্র...
আমি ফোনটা কেটে দিলাম। এই মেয়েকে বুঝাবে কে?
মেয়ে বুঝলো কি না সেটা পরের ব্যাপার। আমার ঘুমের চৌদ্দটা বাজলো এইটাই
হলো আসল কথা। তার থেকেও খারাপ ব্যাপার হলো আমি ডাবল মেজাজ খারাপ করে বসে
রইলাম।
ডাবল মেজাজ খারাপ করার সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো আপনার ভালো কথাও এখন
এসিডের মত লাগবে। আমিও তার ব্যতিক্রম না। বরঞ্চ আমি তার তিন কাঠি উপরে। তিন
কাঠি উপরে মানে আমি প্রথমে কাউকে অকারণেই ভীষণ ধমকাধমকি করি। এরপর দরজা
বন্ধ করে বসে থাকি। তারপর ঘর থেকেই বেরিয়েই যাই। আজ-ও তার ব্যতিক্রম হলো
না। কাজের মেয়ে সকাল সকাল এসেই ঘরে ঝাড়ু দেওয়া শুরু করেছে। কি আশ্চর্য্য!
সকাল বাজে মাত্র ১০টা। এখনই তোর ঘর ঝাড়ু দেওয়ার কি আছে? আরো পরে আয়! তাছাড়া
আমি ঘরে হাফপ্যান্ট পড়ে ঘুমাই। এই মেয়ে যখন তখন ঢুকে পড়ে। তারপর আড়চোখে
একবার পা থেকে মাথা পর্যন্ত চিকণ দৃষ্টি দেয়। তারপর সময় নিয়ে ওড়না পেচাইতে
থাকে। এসব শেষ হলে ঘর ঝাড়ু দেয়। প্রতিদিন কিছু বলি না। আজকে ডাবল মেজাজ
খারাপ। তাই ওর কপালে খারাপি তো থাকবেই। আজকে ওর ওড়নার একদিন কি আমার একদিন।
-কিরে তুই এত সকাল সকাল আসলি যে?
-- ওমা! বেলা বাজে ১০টা। আফনে এইতিরে কন সক্কাল সক্কাল?
-আমার কাছে ঐটাই সকাল। ১০ টা মানে ভোর রাত। ১১টা মানে ফজর। যা এখন।
--অকি। তাড়াইনের লিগা ব্যতিব্যস্ত ক্যান? খালাম্মা কইছে ঘর ঝাড়ু দেতে। তাই দেতেই হইবে। না দেলে মোরে বকপেনে।
- খালাম্মার গুষ্টি গিলাই। যা এখান থেকে!
--অকি ভাইজান! খালাম্মার গুষ্টি আর আপনের গুষ্টি তে তফাৎ কনে? নিজের গুষ্টি কিলাইলে হইবে?
আমি কিছু বলতে গিয়ে আটকে গেলাম। কাজের মেয়ে ঘর ঝাড়ু দিয়ে চলে গেলো।
ওড়না আজকে পেচিয়েই এসেছে। তাই ওটা নিয়েও ঝাড়ি দিতে পারলাম না। ডাবল রাগের
নিয়মানুযায়ী আমার এখন দরজা আটকে দেওয়ার কথা। কিন্তু দরজা আটকাতেও মন চাচ্ছে
না। রাগ এখন আর ডাবল নাই। ট্রিপল হয়েছে। তাই মাঝের স্টেপ বাদ। আমি ঘর
থেকেই বেরিয়ে গেলাম।
আমার আগে কখনো ট্রিপল রাগ ধরেনি। তাই বুঝছি না সামনে কি হবে! আমি কি
কাউকে খুন করে বসবো? নাকি মাথা ফাটানোতেই সীমাবদ্ধ থাকবো... এখনো বুঝতে
পারছি না। তবে কিছু একটা যে হবে এটা নিশ্চিত। আমি কিছু একটা করে ফেলবো
ভাবতে ভাবতে সামনে আগাতে থাকি। হাটতে হাটতে পার্কে ঢুকে পড়ি।
এই পার্ক আমার অতি প্রিয় একটা জায়গা। এখানে ডেইলি মলি তার আম্মাকে নিয়ে
হাটতে আসে। দুবার। বেলা এগারোটায় একবার। বিকাল ৫টায় আরেকবার। আমি সাধারণত
নিচে আসি না। জানালা দিয়েই দেখাদেখির কাজটা সারি। আজকে ট্রিপল মেজাজ খারাপ।
নিচে না এসে উপায় নেই। আমি বেঞ্চে বসে অপেক্ষা করতে থাকলাম। মলিকে দেখলে
আমার মেজাজ ঠান্ডা হবেই।
--ভাইসাহেব কি আগাখান রোডটা চিনেন?
চমকে তাকাতেই দেখি পোটলা পাটলি সহ এক বয়স্ক লোক। হাতে একটা কাগজ।
-না।
--ভাই সাহেব বড়ই বিপদে পড়িয়াছি। আধ ঘন্টা ধরিয়া খুঁজিয়া বেড়াইতেছি।
কেহই সন্ধান দিতে পারিতেছে না। আপনি একটু ঠিকানাটা বলিয়া দিবেন কি?
- বললাম তো চিনি না।
-- ভাইসাহেব তো এই এলাকাতেই থাকেন, তাই না? আপনি একটু চিন্তা করিলেই
বলিতে পারিবেন। আমাকে বলা হইয়াছে আগাখান রোড হইতে পূর্ব পার্শে যে গলি
রহিয়াছে, উহাতে যাইয়া হাতের ডানের গলি ধরিতে। সেই গলির দক্ষিণ পার্শে
মালঞ্চ ভিলায় আমার দূর সম্পর্কের এক বোন বসবাস করিয়া থাকেন। উনি দীর্ঘদিন
যাবত অসুস্থ। সেই অসুস্থ আত্মীয়াকে দেখিতে দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়া আসিয়াছি।
কিন্তু আগাখান রোডটা খুঁজিয়া পাইতেছি না। উহা পাইলেই আমি চিনিয়া নিতে
পারিব। এখন মহাশয়, আপনার যদি একটু করুণা হয়।
একে তো আমি ঢাকার ছেলে। উত্তর দক্ষিণ ভালো চিনি না। তার উপর এই লোক
সাধু ভাষায় দিকনির্দেশনা চাচ্ছে! ভাইসাহেব থেকে রীতিমত মহাশয়!! আমার মেজাজ
ক্রমেই আরো খারাপ হতে লাগলো।
-বললাম তো আংকেল চিনি না। তাছাড়া আমি উত্তর দক্ষিণ-ও ভালো বুঝি না।
পূর্ব পশ্চিম শুনলেই আমার শরীরে কাপন দিয়ে জ্বর আসে। সুতরাং আপনি আসলে
কোথায় যেতে চাচ্ছেন সেটাও বুঝছি না। আপনি কাইন্ডলি অন্য কাউকে জিজ্ঞাসা
করেন।
--ভাইসাহেব! তাহলে আপনি ঠিকানাটা একটু পড়ে দেখিবেন কি?
-উফ কি যন্ত্রণা! আংকেল আপনি অন্য দিকে যান তো!
আমার ‘করুণা’ হলো না। ভদ্রলোক ভীষন মন খারাপ করলেন। মন খারাপ করে
দাড়িয়েই রইলেন। উনি দাঁড়িয়ে থাকুক। তাতে আমার কি? আমি তাকিয়ে আছি পার্কের
দরজার দিকে। মলি তার মাকে নিয়ে হাজির।
মলি কি আমার দিকেই তাকিয়ে আছে? আরে হ্যাঁ তাই তো! শুধু তাকিয়েই নেই...
একেবারে অপলক দৃষ্টি যাকে বলে। যেন আগে কখনো দেখেনি! কি আশ্চর্য্য! ওর
আমাকে দেখলে এমন অনুভূতি হয়?! জানলে তো আরো আগে থেকেই পার্কে আসতাম! আমার
শরীরে শিহরণ জাগতে থাকে। আজকের দিনটা তাহলে একবারে খারাপ নয়...
আমাকে অবাক না, ডাবল অবাক-ও না, একেবারে ট্রিপল অবাক করে দিয়ে মলি দৌড়ে
আসে। আমি উত্তেজনায় উঠে দাড়াই। কিন্তু মলি এসে জড়িয়ে ধরে আমার সামনে
দাঁড়ানো সেই সাধু ভাষার আংকেলকে!
--মামা! তুমি কত দিন পর এলে বলতো?
লোকটাও যেন সৎবিৎ ফিরে পায়।
-মা মলি! তুমি কেমন আছো বলোতো?
--এইতো ভালোই। কখন আসলেন? এইখানে দাঁড়িয়ে যে!
- তোমাদের বাড়ি যে খুঁজে পাইতেছিলাম না মা! ইনাদের জিজ্ঞাসা করিলেও কেহই চিনিতে পারিতেছেন না।
আংকেল অসহায় হয়ে প্রথমে হাতের ঠিকানাটা দেখালেন। এরপর আমাকে। মলি গাধা
মেয়ে না। আংকেলের চেহারা দেখেই যা বোঝার বুঝে নিলো। তারপর আমার দিকে যে
দৃষ্টিটা দিলো তার মানে এই-- ‘ ছোকড়া ,তোমার আর কোন আশাই নাই’।
মলি তার আংকেল ও মা কে নিয়ে চলে গেলো। ওরা পার্কের দরজা দিয়ে বেরিয়ে
যেতেই আমার স্পষ্ট মনে পড়লো আগাখান রোড হলো আমার বাসার তিন গলি পড়েই। প্রথম
যেদিন আমি মলিকে দেখি সেদিন ফলো করে বাসা পর্যন্ত গিয়েছিলাম। দুগলি আগের
রোডের নাম আগাখান রোড। নিজেকে বলেছিলাম ‘এই নাম কোন দিন ভুলবিনা’। কিন্তু
ত্রিপল রাগের মাথায় নিজেকে জাহির করার এমন এক সুযোগ আমি বস্তায় ভরে পানিতে
ফেলে দিলাম। এরপর আর পার্কে থাকার মানে হয় না। মেজাজ এখন চারগুণ খারাপ।
চারগুণ মেজাজ খারাপ হবার পর আর রাস্তায়ও থাকা যায় না। যে কেউ যে কোন
সময়ে আমার হাতে খুন হয়ে যেতে পারে। আমি তাড়াহুড়া করে একটা বাসে উঠে পড়লাম।
আমার বাসভাগ্য সচরাচর ভালো। বাসে দুএকটা সুন্দরী মেয়ে আমার আশেপাশে
সবসময়ই থাকে। সুতরাং যাত্রা সর্বদা ভাবের হয়। আজকে দিন খারাপ। সকাল থেকেই
পিছনে ‘কু’ লাগছে। তাই আজকে পাশে পেলাম এক আন্টিকে। আন্টি দুই সিটের মাঝে
দেড় সিট দখল নিয়ে বসে আছে। আমি কোনরকম একটু বসলাম। আশেপাশের সবাই উৎসুক
দৃষ্টিতে তাকাচ্ছে। আমি একজন মহিলার পাশে বসেছি। অতএব হয় আমি মহিলার বিশেষ
কেউ। আর নইলে আমার স্বভাবে লুইচ্চামি আছে। আন্টি নিজেও সন্দেহের দিকে
তাকাচ্ছে। এই ছেলের মতে কি? সে আমার পাশে কেন বসলো? সে তো দাড়িয়েও থাকতে
পারতো! আন্টি নিজের হাতব্যাগটা আরেকটু টাইট করে ধরে। এইসব দেখে আমার মেজাজ
আস্তে আস্তে পাচঁগুণ খারাপের দিকে যেতে থাকে। বাস চলতে থাকে। এর মাঝে এক
হকার এসে হাজির।
চলন্ত পথের যাত্রী ভাই ও বোনেরা... স্লামালাইকুম। আপনাদের জন্য আমি
নিয়ে এসেছি এক বিশেষ প্রকৃতির মলম। এই মলমের উপকারিতা কি? জানতে চান?
অবশ্যই জানবেন। তার আগে বলেন দেখি, যাত্রীভাই বোনদের মাঝে এমন কি কেউ আছেন
যার খাউজানি, চুলকানি, এলার্জি, গোটা বা বরণের সমস্যা নাই?
হকার একটু থামে। যাত্রী ভাইবোনেরা কেউ কিছু বলে না। চুলকানি, খাউজানি, বরণ কার নাই?!
হকার মুচকি আসে।
চুলকানি, দাউদ, খাওজানির জন্য আপনাদের কতই না ঝামেলা পোহাইতে হয়!
বাড়িতে বসে আছেন। চুলকানির চোটে আপনের অস্থির অবস্থা। হাত দিয়া চুলকাইতে
চুলকাইতে চামড়ার বেহাল দশা। হাতের কাছে যদি থাকে আমার এই টাইগার মলম,
দেখবেন ভাই চুলকানি আর নাই। নিয়া যান একপিস,জানেআলমের স্পেশাল টাইগার মলম।
লাগবে কোন ভাইয়ের?
কেউ হাত বাড়ায় না। প্রকাশ্যে কেউ ‘আমার চুলকানি আছে’ এই কথা বলতে চায়
না। সবাই হাত দিয়ে গোপনে চুলকাতে চায়। আমি উদাস হয়ে জানালার বাইরে তাকাই।
মলির জন্য ভিতরটা ব্যাপক চুলকাচ্ছে। মলম লাগাতে পারলো ভালোই হতো। জানে
আলমের স্পেশাল দিলের ব্যাথা উপশমের মলম।
-ভাই লাগবে নাকি একপিস?
আমি চমকে উঠি। হকার এবার জনে জনে জিজ্ঞাসা করছে। তার দৃষ্টিতে যার যার চুলকানি আছে তাদেরকেই সাধছে মলম নিতে।
--না ভাই। চুলকানি নাই।
-চুলকানির মলম নাতো ভাই!
--তাহলে কিসের মলম?
হকার মাথা নিচু করে। আনার কানের কাছে মুখ নিয়ে বলে-
-ভাই, আছে। লাগলে বইলেন?
-- কি আছে? এইবার আমি কিছুটা ঘাবড়ে যাই।
-দাঁড়ায় না, ছোট, বাঁকা... সমস্যা থাকলে বলেন। আছে ভাই। নগদ ঔষুধ আছে। কম দাম।
-- কি দাঁড়ায় না? কিসের ঔষুধের কথা বলছেন ভাই?
হকার আমার দিকে এমনভাবে তাকালো যেন আমি সৌদি থেকে মাত্র প্লেনে করে
ল্যান্ড করলাম। কিছুই জানি না। এদিকে আশেপাশের লোকজন আরো বেশি করে উকিঝুকি
মারছে। তাদের ধারনা আমি গোপনে চুলকানির সমস্যাটা জানাচ্ছি। আমার সমস্যা কত
গভীর সেটা শোনার জন্য তারা আরো কাছিয়ে আসছে। আমার পাশের আন্টিও উৎসুক হয়ে
উঠে। আমি বিব্রত হই। একটু সময় লাগলেও বুঝে যাই হকার কি দিতে চাইছে।
-না ভাই। ওইরকম কিছু নাই। ঔষধ লাগবে না।
--ভাই লজ্জ্বা পান কেন? আপনের লাগবে আমি জানি।
-আমার লাগবে আপনি কিভাবে বুঝলেন?
--দেখলে বুঝা যায়। এতদিন ধইরা বেচাকিনা করি। কাস্টোমার চিনি।
-না চিনেন না। আমার ঐ জাতিয় কোন সমস্যা নাই। খামোখা বিরক্ত কইরেন না। মেজাজ এমনিতেই ভাল নাই।
-- আরে ভাই চেতেন কেন? এইসব সমস্যাতো মাইষের ‘আচানক’ হয়। সমস্যা থাকলে ঔষুধ লাগবো না?
আমি আর কিছু ভাবতে পারছি না। শুধু একটা বিষয়ই বুঝতে পারছি যে আমার মেজাজ নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যাচ্ছে।
আমি বুঝতে পারলাম না বাস ভর্তি এত লোক থাকতে হকারের কেনই বা মনে হলো যে
আমার গোপন কোন সমস্যা আছে! আশেপাশে সবাই আমার দিকে তাকিয়ে আছে। তারাও
ভাবছে যে আমার আসলেই কোন সমস্যা আছে। দুচারজনের চোখে করুণাও দেখতে পাচ্ছি।
আহা... কচি ছেলেটা! কি সুন্দর চেহারা! অথচ গোপন অঙ্গ ছোট, বাঁকা! চুক
চুক...
-কি হলো ভাই? কি লাগবো কন? হকার আবারো আস্তে করে জিজ্ঞাসা করে।
--ভাই ভালো করে শুনেন। আমার কোন প্রবলেম নাই। মেজাজ খারাপ কইরেন না।
-বুঝছি। সবার সামনে কইতে অসুবিধা, তাই তো? ঠিকাছে এই লন কার্ড। ফুন দিয়েন।
ব্যাপারটা হকারের প্রেস্টিজে লেগেছে।আজ পর্যন্ত সে কাস্টোমার চিনতে ভুল
করেনি। আশেপাশের লোকজনের কাছে তার ভ্যালু কমে যাচ্ছে। সবাই ভাবছে সে
কাস্টমার চিনে না। ফাউল হকার। এই মুহূর্তে সে আমার সমস্যা আছেই এটা প্রমাণ
করতে না পারলে ব্যবসা লাটে উঠবে।
হকার আমাকে রাস্তার মোড়ে মোড়ে হঠাৎ ছুড়ে দেয় যে সব কাগজ, একটা সেগুলা
বাড়িয়ে ধরে। এতক্ষণ কথা আস্তেই হচ্ছিলো। এইবার আশেপাশের সবার কাছেই
উন্মুক্ত হয়, আমি আসলে কি চাই!! আমি কার্ডটা নিলে হকারের নৈতিক বিজয় হয়।
আমি হাত বাড়ালাম না। শুধু বুঝলাম আমার রাগ আর রাগের পর্যায়ে নাই। এই
মুহূর্তে আমি আউট অফ কন্ট্রোল। মানে কমপ্লিট ‘সিস্টেম ব্রেকডাউন’।
আমি কিছুটা জোরেই বলালাম-
-জ্বি ভাই ঠিক ধরছেন। আমার প্রব্লেম আছে। বিশাল প্রবলেম।
হকার বিজয়ীর হাসি হাসে। আশেপাশে তাকায়। ভাবটা এমন... বলছিলাম না প্রবলেম আছে!
--জ্বি বলেন ভাই। কি সমস্যা? কি লাগবো?
-আমার ‘বিচকানি’ আছে।
-- বিচকানি কি?
-বিচকানি বুঝেন না? বিচিতে চুলকানি। ঔষুধ দেন।
হকার চমকে গিয়ে তাকায়। সে আগে কখনোই ‘বিচকানি’ রোগের নাম শুনেনি। আমার
চেহারা দেখে বুঝার চেষ্ট করে আমি ফাইজলামি করছি কিনা। আমি ভাবলেশহীন ভাবে
তাকায় থাকলাম।
-ভাই এই রোগের তো নাম শুনি নাই!?
--শুনেন নাই মানে! প্রতি পাচঁজন পুরুষের মধ্যে একজনের বিচিতে চুলকানি
রোগ আছে। অবিবাহিতদের বেশি। বিবাহিতদের কম। সাংঘাতিক লেভেলে চুলকায়।
প্যান্টের ভিতর হাত দিয়ে এইভাবে চুলকাতে হয়।
আমি প্যান্টের চেন খুলে ভিতরে হাত ঢুকিয়ে চুলকানির ডেমো দিতে থাকি।
আশেপাশের সবাই ভীষণ উৎসুক হয়ে উঠে। আরে এই ছেলের তো আসলেই বিচকানি আছে!
আন্টি ঘাবড়ে গিয়ে আরো দূরে সরে বসে। এই প্রথম আমি পুরাপুরি এক সিট নিয়ে
বসতে পারি। আমি আরো আরাম করে বসে চুলকাতে থাকি। হু হু বাবা...রোগের নাম
বিচকানি। চুলকানি এত সহজে থামবার নয়!
হকার ঘাবড়ে যায়।
-ভাই আমার কাছে এর ঔষুধ নাই।
-- ঔষুধ নাই মানে? কি বলেন আপনে? সমস্যা কত গভীর দেখছেন? আমি আরো জোরে জোরে চুলকাতে থাকি।
-না ভাই নাই।
--কেন নাই?
-এইসব বেচি না। নাই ভাই। অন্য জায়গায় দেখেন।
-বেচেন না মানে? সমস্যাটা তো দেখেন একবার! কি যে খারাপ অবস্থা!! আমি প্যান্ট খুলতে উদ্যত হই।
হকার ভয় পেয়ে লাফ মেরে বাস থেকে নেমে যায়। আমিও প্যান্টের চেন লাগালে
লাগাতে পিছনে পিছনে দৌড় দেই।আজ আমার কমপ্লিট সিস্টেম ব্রেকডাউন হয়েছে।
বিচকানি রোগের ঔষুধ না নেওয়ার আগে শান্তি নাই। হকার ঔষুধ না দিয়ে যাবে কই?
Friday, November 28, 2014
লজ্জ্বা পান তবুও কাউকে আপনার প্রেমে পাগল করতে চান
আমি ভাই ব্যর্থ প্রেমিক। তবে ভাই-বেরাদর, বন্ধু-বান্ধব, দুলাভাইয়েরা সব
সময়ই সমব্যথী ছিলেন। অতএব, তারা বিভিন্ন সময়ে তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে
মেয়ে পটানোর কিছু অব্যর্থ টিপস দিয়ে আমার জ্ঞানের ভান্ডারকে সমৃদ্ধশালী
করেছেন। সেই ভান্ডারের সামর্থ্যে আর কুলাচ্ছে না!! তাই কিছু আপনাদের জন্য
ছেড়ে দিচ্ছি।
নিচের টিপসগুলো মূলত 'কঠিন হৃদয়যুক্ত' কোন কন্যাকে নরম করার গরম ফর্মূলা!(কারণ, আমার প্রতি সব কইন্যাই কেন যেন কঠিন। তাই এই ব্যাপারে সদুপদেশ ও পাইছি বেশী।)
টিপস ১. আপনি কি ভাই খুব ফিটফাট/ গোছালো? প্রথমেই মাইনাছ! কিছুটা অগোছালো, এলোমেলো ছেলেই নাকি সুন্দরী মেয়েদের বেশি পছন্দ! তবে সাবধান! উদ্ধত্যপূর্ণ কিংবা ছেঁড়া-ফাঁড়া পোশাক বাদ দিন। ভালো পারফিউম ব্যবহার করুন।
টিপস ২. মেয়ে ভাবলেশহীন ভাবে তাকিয়ে আছে? আপনি উদাসী হউন। নিজের ব্যাপার গুলো ভুলে যান বেশী করে। জ্ঞান ফলান। তবে হ্যাঁ, আঁতলামি কইরেন না আবার!
টিপস ৩. মেয়ে নরম হচ্ছে না? তাকে দাম দিন। প্রশংসা করুন- তবে মেপে মেপে। শরীর নিয়ে ভুলেও প্রশংসা করবেন না। করলে বিপুল মাইনাছ!! তার কাজকে গুরুত্ব দিন। কোন গুণ থাকলে তার প্রশংসা করুন। পোষা প্রাণী থাকলে ওটারও প্রশংসা করুন(আপনার পছন্দ না হলেও!)
টিপস ৪. মেয়ে বেশি ভাব-গম্ভীর? ঘন ঘন তাকান। বাছাই করা জোক্স দিয়ে রসিকতা করুন। হাসুন-- হাসতে দিন। হাসি মুখ যে কাউকে আকর্ষণ করে।
টিপস ৫. কাজ হচ্ছে না? দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারছেন না?? কিছুটা যৌনতার দিকে যান। কথার ফাঁকে আপনার চুলে হাত বোলান। আপনার দিকে তাকালে জিভ্ দিয়ে ঠোঁট চাটুন (বেশী করা যাবে না।) পশমী বুক থাকলে জামার দু'একটা বোতাম খুলে দিন। ভদ্র ভাবে যৌনতা দেখান......... নরম হবেই!!
টিপস ৬. মেয়ে অতিরিক্ত কঠিন? একেবারেই কাজ হচ্ছে না?? উলটো পথে হাঁটুন। জানেন তো, মাইনাছে মাইনাছে পিলাচ! এইবার দাম কিছুটা কম দেন। অন্য কারো সাথে ক্ষীর খান(মেয়ে হইলে ভালো)!! হঠাৎ দাম কমে গেলে সে কিছুটা জ্বলবেই। জ্বলে পুড়ে অঙ্গার হতে দিন। পড়ে আগুন নিভে গেলে বুঝবে......... আপনি ছাড়া গতি নাই!!
এগুলোতে কোন কাজই হলো না?????
ভয় পাবেন না। ভাত হাত দিয়ে খাওয়া যায়, আবার চামুচ দিয়াও খাওয়া যায়! অর্থাৎ ঘুরপথে আন্টির কাছে যান। মনে রাখবেন, পরিবারও অনেক সময় পছন্দে প্রভাব ফেলে।
টিপস ৭. আন্টিকে কদমবুচি করেন। শরীর-স্বাস্থ্যের খবর নেন। পারিবারিক বিষয় নিয়ে আলাপ করেন। তবে সাবধান!! এতক্ষণ মেয়ের সাথে যা যা করছেন......... আন্টির সাথে আবার রিপিট মাইরেন না! তাইলে আমার লেখা পুরাই ব্যর্থ!!
মা মেয়ের চেয়ে আরো বেশী কঠিন??
কিন্তু মেয়েটা যে বেশী জটিল!! এর সাথেই ভাঁজ খাইতে মনে চায়!!!
তাইলে আর কি? শেষ ভরষা......... তাহার পিতা!
টিপস ৮. এইবার ভুলেও উদাসী পাট লইয়েন না। ফিটফাট হয়া যান। কদমবুচি রিপিট লন। শরীরের খবরও লন। এরপর ইঞ্জিন স্টার্ট দেওয়ার মত পিতার পছন্দের কোন বিষয়ে কথার আরম্ভ কইরা দেন। সামনে নাশতা আসছে? খাওয়ার কথা ভুলে যান! খালি উৎসাহী বদনে শুনে যান। গাম্ভীর্য বজায় রাখুন। পরবর্তীতে ঘরে আপনার প্রশংসা হবেই। এতে যদি মেয়ে কিছুটা গলে!!!!
পরিশেষঃ
" যদি দেখেন টিপ্স গুলাতে কোন কাজ-ই হয় না
বুঝিবেন এই মেয়ে আপনার সাথে যায় না !! "
"ছেড়ে দিয়ে এই মেয়েকে পটানোর ধান্দা
নামাজ ধরে হয়ে যান খোদার প্রিয় বান্দা।"
নিচের টিপসগুলো মূলত 'কঠিন হৃদয়যুক্ত' কোন কন্যাকে নরম করার গরম ফর্মূলা!(কারণ, আমার প্রতি সব কইন্যাই কেন যেন কঠিন। তাই এই ব্যাপারে সদুপদেশ ও পাইছি বেশী।)
টিপস ১. আপনি কি ভাই খুব ফিটফাট/ গোছালো? প্রথমেই মাইনাছ! কিছুটা অগোছালো, এলোমেলো ছেলেই নাকি সুন্দরী মেয়েদের বেশি পছন্দ! তবে সাবধান! উদ্ধত্যপূর্ণ কিংবা ছেঁড়া-ফাঁড়া পোশাক বাদ দিন। ভালো পারফিউম ব্যবহার করুন।
টিপস ২. মেয়ে ভাবলেশহীন ভাবে তাকিয়ে আছে? আপনি উদাসী হউন। নিজের ব্যাপার গুলো ভুলে যান বেশী করে। জ্ঞান ফলান। তবে হ্যাঁ, আঁতলামি কইরেন না আবার!
টিপস ৩. মেয়ে নরম হচ্ছে না? তাকে দাম দিন। প্রশংসা করুন- তবে মেপে মেপে। শরীর নিয়ে ভুলেও প্রশংসা করবেন না। করলে বিপুল মাইনাছ!! তার কাজকে গুরুত্ব দিন। কোন গুণ থাকলে তার প্রশংসা করুন। পোষা প্রাণী থাকলে ওটারও প্রশংসা করুন(আপনার পছন্দ না হলেও!)
টিপস ৪. মেয়ে বেশি ভাব-গম্ভীর? ঘন ঘন তাকান। বাছাই করা জোক্স দিয়ে রসিকতা করুন। হাসুন-- হাসতে দিন। হাসি মুখ যে কাউকে আকর্ষণ করে।
টিপস ৫. কাজ হচ্ছে না? দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারছেন না?? কিছুটা যৌনতার দিকে যান। কথার ফাঁকে আপনার চুলে হাত বোলান। আপনার দিকে তাকালে জিভ্ দিয়ে ঠোঁট চাটুন (বেশী করা যাবে না।) পশমী বুক থাকলে জামার দু'একটা বোতাম খুলে দিন। ভদ্র ভাবে যৌনতা দেখান......... নরম হবেই!!
টিপস ৬. মেয়ে অতিরিক্ত কঠিন? একেবারেই কাজ হচ্ছে না?? উলটো পথে হাঁটুন। জানেন তো, মাইনাছে মাইনাছে পিলাচ! এইবার দাম কিছুটা কম দেন। অন্য কারো সাথে ক্ষীর খান(মেয়ে হইলে ভালো)!! হঠাৎ দাম কমে গেলে সে কিছুটা জ্বলবেই। জ্বলে পুড়ে অঙ্গার হতে দিন। পড়ে আগুন নিভে গেলে বুঝবে......... আপনি ছাড়া গতি নাই!!
এগুলোতে কোন কাজই হলো না?????
ভয় পাবেন না। ভাত হাত দিয়ে খাওয়া যায়, আবার চামুচ দিয়াও খাওয়া যায়! অর্থাৎ ঘুরপথে আন্টির কাছে যান। মনে রাখবেন, পরিবারও অনেক সময় পছন্দে প্রভাব ফেলে।
টিপস ৭. আন্টিকে কদমবুচি করেন। শরীর-স্বাস্থ্যের খবর নেন। পারিবারিক বিষয় নিয়ে আলাপ করেন। তবে সাবধান!! এতক্ষণ মেয়ের সাথে যা যা করছেন......... আন্টির সাথে আবার রিপিট মাইরেন না! তাইলে আমার লেখা পুরাই ব্যর্থ!!
মা মেয়ের চেয়ে আরো বেশী কঠিন??
কিন্তু মেয়েটা যে বেশী জটিল!! এর সাথেই ভাঁজ খাইতে মনে চায়!!!
তাইলে আর কি? শেষ ভরষা......... তাহার পিতা!
টিপস ৮. এইবার ভুলেও উদাসী পাট লইয়েন না। ফিটফাট হয়া যান। কদমবুচি রিপিট লন। শরীরের খবরও লন। এরপর ইঞ্জিন স্টার্ট দেওয়ার মত পিতার পছন্দের কোন বিষয়ে কথার আরম্ভ কইরা দেন। সামনে নাশতা আসছে? খাওয়ার কথা ভুলে যান! খালি উৎসাহী বদনে শুনে যান। গাম্ভীর্য বজায় রাখুন। পরবর্তীতে ঘরে আপনার প্রশংসা হবেই। এতে যদি মেয়ে কিছুটা গলে!!!!
পরিশেষঃ
" যদি দেখেন টিপ্স গুলাতে কোন কাজ-ই হয় না
বুঝিবেন এই মেয়ে আপনার সাথে যায় না !! "
"ছেড়ে দিয়ে এই মেয়েকে পটানোর ধান্দা
নামাজ ধরে হয়ে যান খোদার প্রিয় বান্দা।"
বাসর রাতেই বিলাই মারিতে চান??(অবিবাহিত পুরুষদের জন্য)
অতি ছোটবেলা থেকেই দেখিতেছি--পুরুষ যত শক্তিমানই হউক না কেন, বিবাহের পর
পরই কেমন যেন পুতাইয়া যায়! সেই পুতানোর ধরন এমনই যে, যেই পুরুষ প্রতিদিন
সকালে ঘুম থেকে উঠিয়াই নিয়মিত ব্যায়াম করিয়া শরীরের বাইসেপ- ট্রাইসেপ
বাড়াইতো--আজ সেই তার বউয়ের হাত-পায়ের বাইসেপ টিপিয়া আদরে ঘুম পাড়াইয়া
দেয়!! বাবা মায়ের এত কষ্টের তৈরী সুউচ্চ মেরুদন্ডের পিলার, বাসর রাতের পর
থেকেই কেমন নড়বড় করিতে থাকে!!
যাহাদের মেরুদন্ডের পিলার এহেন নড়বড়ে, তার একটাই কারণ। উনারা বাসর রাতেই বিলাই মারিতে ব্যর্থ হয়েছেন! আর যারা প্রথম পনের মিনিট কাম-ক্রোধ আটকাইয়া শক্ত হাতে বিলাই মারিতে পারে, তারাই ভবিষ্যতে নিজেদের মেরুদন্ডের পিলারে সিমেন্ট লাগাইতে সমর্থ হয়।
সুতরাং, বাসর রাত শুনিয়াই শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর জায়গা না চু্লকাইয়া-- আসেন দেখি কিভাবে সহজেই বিলাই মারা যায়!
পদ্ধতি ১. দুরুদুর বুকে নতুন বউ যখন আপনার পায়ে ধরে সালাম করিতে আসিবে ..... তখনি পিছাইয়া যান! গম্ভীর কন্ঠে বলেন -->''আমার পা অতি পাক। উহা স্পর্শ করিতে হইলে
তোমাকে সাবান দিয়া হাত ধুইয়া আসিতে হইবে!!" নতুন বউ আর কি বলিবে?! হাত ধুইয়া আসিয়া যখন আবার আপনার পা ধরিয়া সালাম করিবে, ততক্ষণে আপনার বিলাই মারা শেষ!
পদ্ধতি ২. নতুন বুউয়ের খোমা দেখে-- 'পূর্ণিমার চাঁদ দেখতে গিয়ে দেখেছিনু তোমায়'-- টাইপ ডায়লগ দিলেন- তো গেলেন! বরঞ্চ সন্দেহজনক ভাবে তাকাইয়া থাকেন। আর রহস্যময় গলায় কন --''তুমার চেহারা কেন জানি খুবই পরিচিত লাগতাছে! মনে হয় রমনায় অন্য কোন পুলার সাথে
দেখছিলাম!!" বউ যতই আত্মপক্ষ সমর্থন করুক না কেন, আপনি খালি অবিশ্বাসের হাসি হাসতে থাকেন। এহেন সন্দেহের ফলে বিলাই যে পুরাই চিকায় পরিণত হইবে- সেই ব্যাপারে নিচ্চিত থাকতে পারেন!!
পদ্ধতি ৩. বাসর ঘরে বিছানায় উঠেই অনেকে আবেগে কাইত হয়া যায়! আপনি তা না করে বরং খাটের চিপা চাপা থেকে একটা ছারপোকা খুঁজে বার করেন। এরপর হিংস্র ভাবে উহা
টিপিয়া মারিয়া বউয়ের দিকে তাকাইয়া ঠান্ডা গলায় বলেন --> "আমার নিরব শত্রুদের আমি এইভাবেই পিষে মারি!" এভাবে দেখবেন, বিলাই নিরবেই মারা পড়িবে।
পদ্ধতি ৪. বউয়ের নাক-কান দেখিয়া মুগ্ধ হইলেন তো বিল্লী মারার খেলায় ডাক মারিলেন! বরঞ্চ, খুঁত বাইর করেন। আর বলদ বলদ গলায় বলিতে পারেন -- >"আহা.... তোমার নাক দেখি অতিশয় লম্বা! সমস্যা নাই, আমার হাতের একাধিক রাম থাবড় খাইলেই নাক স্ব স্থানে বসে যাইবে।" -- এহেন ডায়লগের পর বিল্লি আপনাতেই আত্মহত্যা করিবে বলিয়া আশা করা যায়!
পদ্ধতি ৫. আপনার কাম- ক্রোধ উত্তেজনা যদি অতি বেশী হয়- অর্থাৎ বিলাই মারার জন্য পনের মিনিটের ধৈর্য্যও যদি না থাকে ........ তাহলে আরেকটা পদ্ধতি অবলম্বন করে দেখতে
পারেন। বাসর ঘরে ঢুকেই ফরাৎ করে পাঞ্জাবী ছিড়িয়া এবং কুইক পাজামা খুলিয়া বিছানায় ঝাপাইয়া পড়িয়া বউয়ের হাত ধরিয়া বলেন --"ভালোবাসা দিবি কিনা বল!?!" এহেন আকস্মিক ঘটনায় ভ্যাবাচ্যাকা খাইয়া বিলাই মরে যেতে পারে!
জানিনা এহেন টিপসে আপনার কাজ হইবে কি না! কারণ, আমি যে অবিবাহিত!! তবুও রিস্ক লইয়া ট্রাই লইবেন , প্রত্যাশা রইলো!!
পরিশেষে.... মেরুদন্ড সোজা করিয়া দাড়াইতে পারেন না যেসব ভাইজান; তাহাদের জন্য দু 'লাইন--
"বউ পিছ পিছ ঘুরিছে দেখ অভাগা পুরুষ জাতি
বাসর রাতেই বিলাই মারিলে কি ছিলো এমন ক্ষতি!!"
যাহাদের মেরুদন্ডের পিলার এহেন নড়বড়ে, তার একটাই কারণ। উনারা বাসর রাতেই বিলাই মারিতে ব্যর্থ হয়েছেন! আর যারা প্রথম পনের মিনিট কাম-ক্রোধ আটকাইয়া শক্ত হাতে বিলাই মারিতে পারে, তারাই ভবিষ্যতে নিজেদের মেরুদন্ডের পিলারে সিমেন্ট লাগাইতে সমর্থ হয়।
সুতরাং, বাসর রাত শুনিয়াই শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর জায়গা না চু্লকাইয়া-- আসেন দেখি কিভাবে সহজেই বিলাই মারা যায়!
পদ্ধতি ১. দুরুদুর বুকে নতুন বউ যখন আপনার পায়ে ধরে সালাম করিতে আসিবে ..... তখনি পিছাইয়া যান! গম্ভীর কন্ঠে বলেন -->''আমার পা অতি পাক। উহা স্পর্শ করিতে হইলে
তোমাকে সাবান দিয়া হাত ধুইয়া আসিতে হইবে!!" নতুন বউ আর কি বলিবে?! হাত ধুইয়া আসিয়া যখন আবার আপনার পা ধরিয়া সালাম করিবে, ততক্ষণে আপনার বিলাই মারা শেষ!
পদ্ধতি ২. নতুন বুউয়ের খোমা দেখে-- 'পূর্ণিমার চাঁদ দেখতে গিয়ে দেখেছিনু তোমায়'-- টাইপ ডায়লগ দিলেন- তো গেলেন! বরঞ্চ সন্দেহজনক ভাবে তাকাইয়া থাকেন। আর রহস্যময় গলায় কন --''তুমার চেহারা কেন জানি খুবই পরিচিত লাগতাছে! মনে হয় রমনায় অন্য কোন পুলার সাথে
দেখছিলাম!!" বউ যতই আত্মপক্ষ সমর্থন করুক না কেন, আপনি খালি অবিশ্বাসের হাসি হাসতে থাকেন। এহেন সন্দেহের ফলে বিলাই যে পুরাই চিকায় পরিণত হইবে- সেই ব্যাপারে নিচ্চিত থাকতে পারেন!!
পদ্ধতি ৩. বাসর ঘরে বিছানায় উঠেই অনেকে আবেগে কাইত হয়া যায়! আপনি তা না করে বরং খাটের চিপা চাপা থেকে একটা ছারপোকা খুঁজে বার করেন। এরপর হিংস্র ভাবে উহা
টিপিয়া মারিয়া বউয়ের দিকে তাকাইয়া ঠান্ডা গলায় বলেন --> "আমার নিরব শত্রুদের আমি এইভাবেই পিষে মারি!" এভাবে দেখবেন, বিলাই নিরবেই মারা পড়িবে।
পদ্ধতি ৪. বউয়ের নাক-কান দেখিয়া মুগ্ধ হইলেন তো বিল্লী মারার খেলায় ডাক মারিলেন! বরঞ্চ, খুঁত বাইর করেন। আর বলদ বলদ গলায় বলিতে পারেন -- >"আহা.... তোমার নাক দেখি অতিশয় লম্বা! সমস্যা নাই, আমার হাতের একাধিক রাম থাবড় খাইলেই নাক স্ব স্থানে বসে যাইবে।" -- এহেন ডায়লগের পর বিল্লি আপনাতেই আত্মহত্যা করিবে বলিয়া আশা করা যায়!
পদ্ধতি ৫. আপনার কাম- ক্রোধ উত্তেজনা যদি অতি বেশী হয়- অর্থাৎ বিলাই মারার জন্য পনের মিনিটের ধৈর্য্যও যদি না থাকে ........ তাহলে আরেকটা পদ্ধতি অবলম্বন করে দেখতে
পারেন। বাসর ঘরে ঢুকেই ফরাৎ করে পাঞ্জাবী ছিড়িয়া এবং কুইক পাজামা খুলিয়া বিছানায় ঝাপাইয়া পড়িয়া বউয়ের হাত ধরিয়া বলেন --"ভালোবাসা দিবি কিনা বল!?!" এহেন আকস্মিক ঘটনায় ভ্যাবাচ্যাকা খাইয়া বিলাই মরে যেতে পারে!
জানিনা এহেন টিপসে আপনার কাজ হইবে কি না! কারণ, আমি যে অবিবাহিত!! তবুও রিস্ক লইয়া ট্রাই লইবেন , প্রত্যাশা রইলো!!
পরিশেষে.... মেরুদন্ড সোজা করিয়া দাড়াইতে পারেন না যেসব ভাইজান; তাহাদের জন্য দু 'লাইন--
"বউ পিছ পিছ ঘুরিছে দেখ অভাগা পুরুষ জাতি
বাসর রাতেই বিলাই মারিলে কি ছিলো এমন ক্ষতি!!"
পাত্রি চাই
আমি আসতে চাইনি। বিশ্বাস করুন আসতে চাইনি। কিন্তু না এসে পারলাম না। মুক্তারের ভাষায়—ভরসা ভাই ছাড়া নাকি আমার গতি নাই। আমি আর কি করবো? জীবনে গতি আনা দিয়ে কথা! তাই অনেকটা বাধ্য হয়েই আসতে হলো।
মালিবাগে অফিস। ভরসা এন্ড কোং। ওরফে ভরসা ভাই।
ব্যাপারটা কবে থেকে শুরু হলো ঠিক মনে নেই। একা ছিলাম। ভালোই ছিলাম। চাকরি করি। নিজেরটা নিজে খাই। আরামে ঘুমাই। বিয়ে শাদির কি দরকার? বিয়ে ব্যাপারটা মোটেই ভালো না। ধরেন আপনে সকালে একটু আরাম করে ঘুমাচ্ছেন তো গেছেন! ঘুম ভাঙ্গিয়ে দিয়ে বউ বাজারে পাঠাবে। বিকেলে একটু ঘুমাতে যাবেন কি বউ পার্কে যাওয়ার আবদার ধরে বসবে। সন্ধ্যায় একটু চা খেয়ে খেলা দেখতে বসবেন তো বউ স্টার প্লাস দিয়ে বসে থাকবে। আর রাতে একটু তাড়াতাড়ি কাত হবেন তো বউ ‘ছ্যাত’ করে উঠবে! আর গোটা দুই বাচ্চা কাচ্চা হলো তো সব স্বাধীনতা গেলো! উহু বাবা। এইসব ঝামেলার মাঝে আমি নেই। যা আছি বেশ আছি।
কিন্তু বিধিবাম। আপনে সুখে থাকলে পাড়াপড়শীকে ভূতে কিলাবে—এইটাই স্বাভাবিক। আমার বেলায় ব্যাপারটা আরো বেশি খারাপ। আমার পড়শিদের ভূতে কিলাচ্ছে না, একেবারে খুন করে ফেলার হুমকি দিচ্ছে! ব্যাচেলর বলে একে তো বাসা টাসা পাই-ই না। এক বাড়িওয়ালা শেষে বাসা ভাড়া দিলো। তার মেয়ে পড়ে ক্লাশ নাইনে। সেই কারণে আমার প্রতি বাড়িওয়ালার সন্দেহের অন্ত নাই। তার মেয়েকে কোন এক ছেলে চিঠি দিয়েছে। সেই ছেলে আমি কিনা বুঝার জন্য আমার গুরুত্বপূর্ণ তিন তিনটা খাতা উনি নিয়ে গেলেন। হাতের লেখায় কি মিল পেলেন কে জানে, আমার আর সেখানে থাকা হলো না। আরেক বাসায় উঠলাম। ছাদে রুম মিললো। তাই সই। বাড়িওয়ালার দুই ছেলে। আহা বাঁচা গেলো! মেয়ে তো আর নাই! তাতে কি? ছেলেদের বান্ধবীরা তো আছে, তাই না? আমি ছাদে থাকলে ফষ্টিনষ্টি করতে সমস্যা হয়। তাই আমাকে তাড়াও। এরপর অনেক দেখে শুনে এক লোকের বাড়িতে উঠলাম। লোকের মেয়ে নাই, ছেলেও নাই। আশেপাশের কোন বাড়িতেও মেয়ে নাই। এমনকি বাড়িতে কাজের মেয়েও নাই। শুনলাম তার বাসায় নাকি ভাড়াটিয়া টিকে না। তা না টিকুক, আমার কি? আমার মিলেছে তাই গিয়ে উঠলাম। ওই বাড়িতে উঠেছি শুনে এলাকাবাসি খালি সন্দেহের দৃষ্টিতে তাকায়। দিন পনেরো থাকতেই বুঝলাম- বাড়িওয়ালা পুরাই একটা গে। তার মেয়েছেলের দরকার নাই। দরকার ব্যাটাছেলে। মান ইজ্জ্বত নিয়ে কোনরকমে পালায় বাঁচলাম। এরপরই সিদ্ধান্ত নিলাম বিয়ে শাদি করার। শালার যা আছে কপালে।
আমার কপালে ভালো কিছু থাকা অসম্ভব। প্রমাণ পেলাম একেবারে হাতেনাতে। বিয়ে করতে চাই শুনে আমার বাল্যবন্ধু মুক্তার আমাকে নিয়ে গেলো আরেক বন্ধু মজনুর বিয়েতে। ব্যাপারটা হয়ত আগে থেকেই আলোচনা করা ছিলো। তাই আমার বন্ধুরা তাদের বউ ছাড়াও শ্যালিকা, ননদ, ছোটবোন, ফুফাতো, মামাতো, তালতো এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে খালি মেয়ের একটা ছবি নিয়ে হাজির। হঠাৎ বেশি ভাত খেলে কিন্তু পেটে সয় না। আমারো তাই হলো। দুপুর থেকে সন্ধ্যা অবদি প্রায় ২৭টা মেয়েকে পা থেকে মাথা পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করে রাতে ডাইরেক্ট ‘স্বপ্নদোষ’। খেপে গিয়ে সিদ্ধান্ত নিলাম আর বিয়েতে গিয়ে মেয়েই দেখবো না। এরপর-ই মুক্তার নিয়ে এলো ভরসা ভাইয়ের কাছে।
--কি রকম মেয়ে চান কন দেখি?
ভরসা ভাইয়ের ডাকে আমার টনক নড়ে।
-কি রকম আছে?
--তিন রকম। কচি, বুচি, লুচি...
-দাড়ান দাড়ান। কচি, বুচি এইসব কি?
--কচি হলো আঠারর কম। বুচি বাইশের মইধ্যে। আর লুচি... হেহে। লুচি হইলো গিয়া দেখতে খুবই সৌন্দর্য্য মেয়ে। বয়স ব্যাপার না। সৌন্দর্য্যই ব্যাপার। বুঝছেননি?
আমি ভীষণ চিন্তায় পড়ে যাই। আগে ত বিয়ে করিনি। তাই জানিনা কোনটা ভালো! আমার আবার সুন্দরী মেয়ে পছন্দ। আমি প্রায় বলে ফেলেছিলাম লুচি কিন্তু মুক্তার তার আগেই বলে বসলো ‘কচি’।
-ধুর বাল্যবিবাহ করাবি নাকি? আমি প্রতিবাদ করি।
--বিয়ে করবি তো কচিই ভালো। যা বলবি তাই শুনবে।
আমি ভাবনায় পড়ে যাই। কল্পনায় দেখি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননিয় পুলিশবাহিনী আমাকে দড়িতে বেঁধে ধরে নিয়ে যাচ্ছে। অপরাধ বাল্যবিবাহ। আমি ‘কচি’ মেয়েকে বিয়ে করতে কিছুতেই রাজি হই না। কচিটচি বিয়ে করে শেষে জেলের ভাত খাই! দরকার নেই বাবা। মুক্তার অবশেষে মেনে নেয়। ভরসা ভাই বলে বিসমিল্লাহ্।
তাকাতেই দেখি বিসমিল্লাহ। মানে প্রথম মেয়ের ছবি। ক্যাটাগরি লুচি মেয়ে।
-দেখেন তো কেমন।
--মেয়ে মাশাল্লাহ্ ভীষন সুন্দর। দেখ দেখ। মুক্তার খুশি হয়।
সুন্দর না ছাই। আমি সাফ না করে দেই।
-এইটা?
--আহা আহা কি দারুণ চেহারা! মায়া মায়া চোখ। মুক্তার বলে ঊঠে।
মায়া চোখ! কাজল দিয়ে ভূত বানায় রাখছে। আমি বিরক্ত হই।
-এই ছবিটা দেখেন দেখি।
-- উফ মাইরি কি সুন্দর! কি দারুণ কি দারুণ। মুক্তার উল্লসিত হয়।
সুন্দর? দেখে তো মনে হয় বান্দরের হাড্ডি। আমার মেজাজ খারাপের দিকে যেতে থাকে। মাথা নাড়াই। চলবে না।
-বুঝছি। তাইলে এইটা দেখেন?
আমার মনে হলো অনেকক্ষণ পর একটা মনের মত মেয়ে দেখলাম। কিন্তু মুক্তার গম্ভীর। আমাকে হাত দিয়ে ছবির একটা অংশ দেখিয়ে দিয়ে বললো- বেশি বড়।
-- তো কি হইসে? হইতে পারে না?!
-না। বিয়ের আগেই এই অবস্থা, বিয়ের পর না জানি কি হবে!
ঝাড়া তিন ঘন্টা চলে গেলো। লুচি, বুচি দুই ক্যাটাগরিতে আর মেয়ে বাকি নেই। আমার পছন্দ হয় তো মুক্তারের হয় না। মুক্তারের হয় তো আমার হয় না। দুজনের পছন্দে যে মিলে নাই তা না। একটাকে দুজনেরই ভালো লাগলো। কিন্তু ভরসা ভাই নিজেই ভরসা দিলেন না। মেয়ে নাকি দুইবার পালায় বিয়ে করেছে। এখন বাবা ‘নিজে’ দেখেশুনে বিয়ে দেবেন। এইসব দেখে আমি রণে ভঙ্গ দিলাম। মুক্তারকে বললাম- চল যাইগা। বিয়ার দরকার নাই।
--যাইগা মানে? কচি মেয়ে তো দেখলিই না।
-দরকার নেই দেখার।
--দরকার নেই মানে? এতক্ষণ বসলি। আরেকটু বয়। কাজ ফেলে তোর জন্য এখানে আসলাম। মেয়ে পছন্দ না করে যাচ্ছি না আমি।
-তাই বলে শেষে ষোল সতের বয়সের মেয়ে দেখবি? তোর কি মাথা খারাপ হইসে?
-- মাথা খারাপ হবে কেন? আগে তো মেয়ে দেখ। ভালো লাগলে পরে দেখা যাবে।
আমি ক্ষান্তি দিলাম। ভরসা ভাই বললেন -হ হ ভাই ঠিকই কইছে। বিয়া করবেন ত কচিই ভালা। স্বাদ আহ্লাদ কম থাকবো। নিজের মত বানাই লইবেন।
আমি আর কি বলবো? দুইজন বিবাহিত লোকের পাল্লায় পড়েছি। এরা নিশ্চয়ই নিজেদের অভিজ্ঞতা থেকেই বলছে। আস্তে করে মাথা ঝুকিয়ে দিলাম। যা আছে কপালে।
ভরসা ভাই একগাল হেসে কচি মেয়েদের এ্যালবামে হাত দিলেন।
পছন্দ হলো এইবার। একটা না। একেবারে তিনটা। আমি স্বীকার করতে বাধ্য হলাম যে কচি মেয়ের ক্যাটাগরি আসলেই কাজের। তিনটাই ইন্টারে পড়ে। বয়সটা নিয়ে ভিতরে খচখচ করতেই থাকলো। কিন্তু মুক্তার বিজয়ীর হাসি দিয়ে আমাকে নিয়ে বেরিয়ে এলো। কিছু বুঝার আগেই শালায় বাইক নিয়ে হাওয়া। আমার হাতে গুজে দিয়ে গেলো ওদের নাম ধাম ঠিকানা সবকিছু। বাড়ি ফিরে এলাম।
মুক্তার পইপই করে বলে দিয়েছে রাতে ফোন দিবি। নিজে বিয়ে করবি, মেয়ে একটু নিজে যাচাই করে নিবি না? এদিকে আমি কি করবো বুঝতে পারছি না। হাতে নাম্বার নিয়ে হাবার মত বসে আছি। শেষে ফোন দেওয়াই উচিত বলে মনে হলো। কাকে আগে ফোন দেই। দুইটা আছে ইন্টার সেকেন্ড ইয়ার। একটা ফার্স্ট ইয়ার। আমি ‘বড়’ একটাকে ফোন দিলাম।
-কে বলছেন?
--প্রীতি আছে।
-বলছি।
--আমি রিভান বলছি। ঘটক ভরসা ভাইয়ের কাছ থেকে আপনার নাম্বার পেয়েছি। তাই ভাবলাম একবার ফোন দেই।
-ও তাই? ঘটক ভরসা ভাই আমার নাম্বার দিয়েছে!?
--জ্বি।
-তা আপনার ঘটক ভাই আমার নাম্বার কেন দিলো?
--বিয়ে করবো তাই মেয়ে দেখতে গিয়েছিলাম ওখানে। আপনার ছবি দেখে পছন্দ হলো। তাই নাম্বার দিলো।
-ও আচ্ছা। তাই বুঝি? গুল মারার আর জায়গা পান না, তাই তো?
-- কি আশ্চর্য্য! গুল মারবো কেন?
-হু তা ত বটেই। আজ আপনাকে নাম্বার দিয়েছে। কাল আরেকজনকে দিবে। পরশু সারা বাংলাদেশ থেকে আমাকে মিসকল দিবে। সবাই ঘটক ভরসা ভাইয়ের কাছ থেকে নাম্বার পাবে। তাই না?
--আহা আপনি রেগে যাচ্ছেন কেন?
- তো কি করবো?
--কথা তো শুনুন।
-তোর কথার আমি গুল্লি মারি।
--প্লিজ রাগ করবেন না। আমার কোন দোষ নেই।
-হারামজাদা ফোন রাখ।
আমি ভয় পেয়ে রেখে দিলাম। আধাঘন্টা পর হাত পা কাপাকাপি বন্ধ হলো। কি সাংঘাতিক মেয়ে মাইরি! আমি পুরো বিষটা নতুন করে ভাবার চেষ্টা করলাম। ভেবে মনে হলো মেয়ের আর দোষ কি? সুন্দরী মেয়ে। কত মানুষে ডিস্টার্ব করে! খেপে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে যে রাগ দেখলাম তাতে কোনভাবে যদি এর সাথে আমার বিয়ে হয়, তাইলেও জীবন একেবারে দফারফা হয়ে যাবে। এই মেয়েকে বিয়ে করা আর একে-৪৭ রাইফেল ঘরে রাখা একই কথা। আমি একটু শান্ত হয়ে ২য় নাম্বারে ফোন দিলাম। এইবার সাবধানে কথা বলতে হবে।
নাম্বার ১৫ মিনিট ধরে বিজি। আমি ১৮তম বার ট্রাই দিয়ে লাইন পেলাম।
-হ্যালো কে বলছেন?
-- ইয়ে রিভান বলছি।
-কোন রিভান?
-- আপনি আমাকে ঠিক চিনবেন না। আমি এক জায়গা থেকে আপনার নাম্বার পেয়েছি। আপনার সাথে একটু পরিচিত হতে চাই।
-কোথা থেকে নাম্বার পেয়েছেন?
--ইয়ে মানে বললে রাগ করবেন না তো!
-রাগ হবো কেন? বলেন শুনি।
--ঘটক ভরসা ভাই।
-হুম। ২৮ নাম্বার।
--২৮ নাম্বার মানে?
-কি করেন, কোথায় থাকেন, বয়স কত... তাড়াতাড়ি বলেন। ২৯ নাম্বার যেকোন সময়ে ফোন দিতে পারে।
--মানে? কি বলছেন এইসব? ২৮/২৯ আবার কি?
-উফ বুঝেন নাই? আপনে ২৮ নাম্বার ব্যক্তি যিনি ভরসা ভাইয়ের কাছ থেকে নাম্বার পেয়ে ফোন দিলেন। এর আগে ২৭ জন গেছে। যা বলার তাড়াতাড়ি বলে ফেলুন। আপনার সময় বেশি না।
আমি ভাষা হারিয়ে ফেললাম। ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্চাই ঠিকমত দুধ পায় না। আর আমিতো ২৮ নাম্বার! হারামজাদা ভরসা! তুই আমারে আগে কবি না যে আমি ২৮ নাম্বার!!! আমি হতাশ হই। তবুও কথা চালিয়ে যাই।
--বাকি ২৭ জনের কি অবস্থা? কাউকে পছন্দ হয়নি?
- তা হয়েছে। রাজি থাকলে তিনজন কালকেই বিয়ে করবে বলেছে। দুজন প্যারিসে হানিমুনে নিয়ে যাবে বলেছে। আর বাকিদের মনে তেমন মনে ধরেনি।
--ও আচ্ছা! তাহলে আর দেখার কি দরকার?
-এমনিই দেখছি। আপনার কোন সমস্যা?
--না। কংগ্রাচুলেশন্স। বাই।
আমি ফোন নামিয়ে রাখলাম। মাথা গরম হয়ে গেছে। কচি মেয়ের গুল্লি মারি। ২কাপ চা খাওয়ার পর মাথা একটু পরিস্কার হলো। ভাবলাম আর কাউকে ফোনই দিবো না। কিন্তু কৌতুহল দমাতে পারলাম না। আর একটাই তো বাকি। ইন্টার ফার্স্ট ইয়ার। তাছাড়া মাথাও গেছে আউলাইয়া। যা হবার সব আজকেই হোক। মাইরধর বকা ঝকা যা খাওয়ার সব আজকেই খাই। পরেরটা পরে দেখা যাবে। ফোন দিলাম। বার তিনেক রিং হতেই ধরল।
-হ্যালো?
-রিমি বলছেন?
- কে বলছেন?
-শুনুন। মন দিয়ে কান খুলে শুনুন। আমার নাম রিভান। আমি তিনবছর হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থে অনার্স করেছি। এখন চাকরি করছি। ব্যাচেলর মানুষ। বাবা মা নাই। আমার বন্ধুবান্ধব পাড়াপ্রতিবেশির মতে আমার বিয়ে করা উচিত। তাই আমি মেয়ে খুজছি। কচি মেয়ে। খুঁজতে খুঁজতে এক ঘটকের কাছে গিয়েছিলাম। সেই ঘটক আপনার নাম্বার দিয়েছে। তাই ফোন দিয়েছি। আপনি আমাকে খারাপ ভাবলে ভাবতে পারেন। তাতে আমার কিছু আসে যায় না। আমি বিয়ে করবো নিজে যাচাই করবো না? তাই ফোন দিয়েছি। আপনার খারাপ লাগলে স্যরি। প্লিজ মাইন্ড কইরেন না। এইবার বলেন আপনার কি মত?
একদমে কথাগুলা বলে থামলাম। ঐপাশ থেকে কোন সাড়া নেই। মিনিট গড়িয়ে যায়। অবশেষে দীর্ঘ নিরবতা ভাঙ্গে।
-তুমি বরঞ্চ কাল একবার এসো বাবা। বাড়িতে রিমির বাবাও থাকবে। রিমিও থাকবে। তখন না হয় বিস্তারিত আলাপ হবে?
--বাবা! ইয়ে আপনি কে বলছেন?
-রিমির মা। হালকা হেসে ফোন রেখে দেন উনি।
আমি বোকার মত ফোনটা ধরে বসে থাকি। পরদিন রিমিদের বাসায় যাই। লজ্জ্বায় কিছু বলতেই পারি না। কথা যা বলার মুক্তারই বলে। ছয়মাস পর বিয়ে ঠিক হয়। মেয়ের তখন আঠারো পুরা হবে। বিয়ে পাকাপোক্ত করে বেরিয়ে আসতেই মোবাইলে মিসকল। আননোন নাম্বার। কল দিলাম।
-কে বলছেন?
--‘কচি মেয়ে’ বলছি। গাধা কোথাকার। রিমি হাসে।
আমিও হাসি। গাধা বলেই তো এমন মেয়ে কপালে জুটলো, তাই না?
Subscribe to:
Comments (Atom)
